ঢাকার বিভিন্ন মসজিদে হাদি’র ন্যায়বিচার ও মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত
প্রয়াত হাদি’র রুহের মাগফিরাত কামনায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, উত্তরা, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মসজিদে মুসল্লিদের অংশগ্রহণে এ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
মোনাজাতে ইমামরা মহান আল্লাহর দরবারে প্রয়াত হাদি’র গুনাহ মাফ, কবরকে নূরে ভরপুর করা এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য বিশেষভাবে প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনকে ধৈর্য ও শক্তি দান করার জন্যও দোয়া করা হয়।
মুসল্লিরা বলেন, হাদি ছিলেন একজন সচেতন ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, যিনি সব সময় সাধারণ মানুষের কথা বলতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু দেশবাসীর হৃদয়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। এ ধরনের শোকাবহ মুহূর্তে সম্মিলিত দোয়া ও মোনাজাত প্রয়াত ব্যক্তির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের একটি নিদর্শন।
দোয়া চলাকালে মসজিদগুলোতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক মুসল্লিকে চোখের পানি ফেলতে দেখা যায়। ধর্মপ্রাণ মানুষের এই সম্মিলিত প্রার্থনা সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
গত শুক্রবার আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের নায়ক শরীফ ওসমান হাদী। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকাতে স্থানান্তর করা হয়।
সেখান থেকে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে পৌঁছে তাকে Singapore General Hospital-এ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়
আজ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক। তিনি সাইফুর্স ইংলিশ কোচিং সেন্টারে কর্মরত ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করতেন। তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার ঝালকাঠি উপজেলার নলছিটি।












