জুমার দিনে কাজ গুলো কি কি, এবং দোয়া কবুলের সময়|

জুমার দিনে কাজ গুলো কি কি, এবং দোয়া কবুলের সময়|

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার। সপ্তাহের অন্য ছয় দিনের মাঝে এই দিনটি বরকত, রহমত এবং নুরে ভরা—একটি সম্মানিত ও মহিমান্বিত দিন। জুমা এমন একটি দিন, যেদিন আদম (আ.) সৃষ্টি হয়েছিলেন, জান্নাতে প্রবেশ করেছিলেন এবং দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। এই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর রহমতের ছায়ায় ঘেরা থাকে, আর রয়েছে এমন একটি বিশেষ সময়—যে সময়ে বান্দার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়।

জুমার দিন তাই শুধু নামাজের দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, তওবা, দরুদ, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ।

জুমার দিনে যে কাজগুলো করা উত্তম

১) গোসল করা

জুমার নামাজের আগে গোসল করা সুন্নত।

২) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও ভালো পোশাক পরা

অতিযত্নে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা—মিসওয়াক করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা।

৩) সূরা কাহফ পাঠ করা

জুমার দিন সূরা কাহফ পড়লে আল্লাহ তাআলা পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর দান করেন।

৪) দরুদ শরিফ বেশি বেশি পাঠ করা

জুমার দিন নবী ﷺ–এর ওপর দরুদ পাঠের ফজিলত আরও বেশি।

৫) জুমার নামাজে আগেভাগে মসজিদে যাওয়া

যত আগে যাবে, তত বেশি সওয়াব।

৬) খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা

খুতবার সময় কথা বলা, মোবাইল দেখা—সব নিষেধ।

৭) বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা

জুমা দোয়া কবুলের বিশেষ দিন।

???? জুমার দিনে কোন সময় দোয়া কাবুল হয়?

হাদিসে দু’টি সময়কে বিশেষভাবে দোয়া কবুলের জন্য উল্লেখ করা হয়েছে—

১) আসর থেকে মাগরিবের মাঝের শেষ মুহূর্তে

জুমার দিনের শেষ সময়ে (বিশেষ করে মাগরিবের ঠিক আগে) দোয়াগুলো অধিক গ্রহণযোগ্য।
অনেক আলেমের মতে এটাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সময়।

২) ইমাম মিম্বারে উঠে বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত

খুতবা শুরু থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়েও দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 সহজ দোয়া

“رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ”
হে আল্লাহ, আমাদেরকে দুনিয়ায় ভালো দিন, আখিরাতে ভালো দিন, আর জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।