আশার আলো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ: মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, উজিরপুর ও বানারীপাড়া (বরিশাল): মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বরিশালের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আশার আলো ফাউন্ডেশন। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সমাজের অবহেলিত, এতিম ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সংগঠনটি আয়োজন করে এক ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক কার্যক্রম ঈদ সামগ্রী বিতরণ।
গত ২৯ রমজান (বৃহস্পতিবার) বরিশালের উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটির উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে সুবিধাবঞ্চিত অসংখ্য পরিবারের মাঝে ঈদকে ঘিরে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সমাজের প্রান্তিক মানুষের জন্য এই উদ্যোগ শুধু সহায়তাই নয়, বরং তাদের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে এমন সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “এই সহায়তা আমাদের জন্য শুধু খাদ্য নয়, বরং ঈদের আনন্দ উপভোগ করার একটি সুযোগ।
উল্লেখ্য, আশার আলো ফাউন্ডেশন শুধুমাত্র ঈদকে ঘিরেই নয়, বরং পুরো রমজান মাস জুড়েই বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ রমজান সংগঠনটি ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
সংগঠনটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন,“আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, বরং এটি আমাদের নৈতিক ও মানবিক কর্তব্য। এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা, দয়া ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ মহিন, যিনি পুরো আয়োজনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,“সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায়দের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে দুঃখ-দুর্দশা অনেকাংশেই লাঘব করা সম্ভব। আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি মানবিক ও সহানুভূতিশীল সমাজ গড়ে তুলতে।
আশার আলো ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. নিয়াজ মাহমুদ তুহিন বলেন, “আমাদের এই কার্যক্রম শুধুমাত্র একটি দিনের উদ্যোগ নয়, আমরা চাই দীর্ঘমেয়াদে অসহায় মানুষের পাশে থাকতে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
আশার আলো ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম মুঈন বলেন সবার সহযোগিতা পেলে আমাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে এবং আরও বেশি পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যাবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ মাসুম মৃধা, মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তাদের উপস্থিতি ও সহযোগিতা পুরো আয়োজনকে আরও সাফল্যমণ্ডিত করে তোলে।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত স্থানীয়রা মত প্রকাশ করেন, এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং মানুষের মাঝে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। তারা আশা করেন, সমাজের অন্যান্য সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিরাও এমন মানবিক কাজে এগিয়ে আসবেন।
সবশেষে বলা যায়, ঈদের আনন্দ শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের অসহায় মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করার মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ নিহিত। আশার আলো ফাউন্ডেশন-এর এই উদ্যোগ সেই সত্যকেই আবারও সামনে তুলে ধরেছে মানবতার জয় হোক, সহমর্মিতার আলো ছড়িয়ে পড়ুক সমাজের প্রতিটি স্তরে।












