রাজনৈতিক বিশ্লেষণে সরব ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, সরকারকে দিলেন চার উপদেশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে সরব ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, সরকারকে দিলেন চার উপদেশ।

বর্তমান সময়ের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়াকে কেন্দ্র করে নিজের আইনি জ্ঞান ও নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে দেশের সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে তিনি নিয়মিত বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও তৈরি করছেন। উল্লেখ্য যে, প্রখ্যাত লেখক শাহরিয়ার কবির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই ব্যক্তিত্ব নিজের ডিজিটাল উপস্থিতির মাধ্যমে এক বিশাল দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করেছেন।

সম্প্রতি একটি টকশোতে অংশগ্রহণ করে তিনি দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে বেশ কঠোর ও যৌক্তিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ধীরগতি নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার মতে, তিস্তা প্রকল্প, পাংশা অঞ্চলের উন্নয়ন, লালমনিরহাটে এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি এবং মিরসরাইয়ে ডিফেন্স ইপিজেড স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো কেন এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখছে না, তা এক বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে, যে দেশ বিভিন্ন উন্নয়ন নিয়ে বড় বড় কথা বলে, সেখানে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো ঝুলে থাকার কারণ নিয়ে তিনি সরকারের কাছে জবাব চেয়েছেন।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার বিষয়েও তিনি তার বিশ্লেষণে সরব ছিলেন। সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বা ফ্যামিলি কার্ড চালু করতে বিশ্বব্যাংকের কাছে ঋণের আবেদন করার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের ভেতর বিশাল অঙ্কের মূলধন থাকার পরও কেন বিদেশি ঋণের জন্য হাত পাততে হচ্ছে, সেই অসংগতি তিনি তুলে ধরেন। তার মতে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে দেশীয় সম্পদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

রাজনীতির অন্দরমহল নিয়েও তার বিশ্লেষণ বেশ জোরালো। বিশেষ করে বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যতই চেষ্টা বা ত্যাগের কথা বলা হোক না কেন, বিএনপির দলীয় চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়টি তার পক্ষে অসম্ভব। রাজনীতির সমীকরণে সালাউদ্দিন আহমেদের সেই সুযোগ নেই বলেই তিনি মনে করেন।

ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবিরের ভিডিওগুলোর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো তার স্পষ্ট ও সরাসরি কথা বলার ভঙ্গি। রাজনৈতিক দলগুলোর ভুলত্রুটি এবং জাতীয় ইস্যুগুলো নিয়ে তার নির্মোহ বিশ্লেষণ সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত আলোচনার খোরাক জোগায়। তার ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে পক্ষে-বিপক্ষে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বর্তমানে তিনি একজন প্রভাবশালী অনলাইন ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সব মিলিয়ে, নিজের আইনি জ্ঞানের আলোকে রাজনীতি ও জাতীয় ইস্যুতে বিশ্লেষণধর্মী কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক নতুন ধারার সূচনা করেছেন।