পানের স্বর্গরাজ্য শোলক: বরজেই গড়ে ওঠা স্বাবলম্বিতার গল্প

পানের স্বর্গরাজ্য শোলক

পানের স্বর্গরাজ্য শোলক: বরজেই গড়ে ওঠা স্বাবলম্বিতার গল্প

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: উজিরপুর উপজেলার শোলক গ্রাম যেন পান চাষের অনন্য স্বপ্নভূমি। উপজেলার বেশিরভাগ মানুষই জীবিকা নির্বাহ করেন পানের বরজের উপর নির্ভর করে। এককথায়, শোলকের প্রতিটি ঘরে ঘরেই রয়েছে পানের বরজের ছোঁয়া।

প্রতিদিন সকাল হলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই নেমে পড়েন বরজের পরিচর্যায়। বছরের পর বছর ধরে এই গ্রামের মানুষরা পান চাষ করে শুধু নিজেদের স্বাবলম্বী করেননি, পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছেন অসংখ্য মানুষের জন্য।

স্থানীয় একাধিক চাষী জানিয়েছেন, এখানকার অধিকাংশ মানুষের প্রধান আয়ের উৎস পান চাষ। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার পান বিক্রি হয় এই এলাকা থেকে। শুধু স্থানীয় বাজার নয়, বরিশাল ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় এখানকার প্রসিদ্ধ পান।

পান চাষের কারণে শোলক গ্রামটি ক্রমেই বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের গণ্ডি পেরিয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাবলম্বিতার নতুন উদাহরণ হিসেবে। গ্রামটি এখন শুধু পানের বরজেই ঢাকা নয়, বরং এখানকার মানুষের কঠোর পরিশ্রম আর সাফল্যের গল্পে ঢেকে গেছে।

উজিরপুর উপজেলার শোলকের পাশাপাশি হারতা, সাতলা, ঘণ্টেশ্বরসহ আরও অনেক এলাকায়ও পান চাষ জনপ্রিয় হলেও, শোলক নিজস্ব স্বকীয়তায় আলাদা। এখানে পান চাষের বাম্পার ফলন এবং উন্নত মানই এলাকার অর্থনীতিকে করেছে সমৃদ্ধ।

শোলকের এক প্রবীণ পান চাষী বলেন, “আমাদের জীবনের রুটি-রুজি এই পান। এর উপরই ভরসা করে সংসার চলে, ছেলেমেয়ের পড়াশোনা হয়।”

গ্রামের প্রতিটি বরজ আর চাষির পরিশ্রম মিলে শোলককে আজ পরিণত করেছে এককথায় ‘পানের স্বর্গরাজ্য’তে; যেখানে পানের সুবাসে ভর করে বয়ে যাচ্ছে সমৃদ্ধির জোয়ার।